যাকাত

ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ - সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সম্পদের পবিত্রতা।

যাকাত কি?

যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, বৃদ্ধি ও পরিশুদ্ধি। ইসলামের পরিভাষায়, নিসাব (নির্দিষ্ট পরিমাণ) পরিমাণ সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন মুসলিমের জন্য বছরের শেষে তার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (সাধারণত ২.৫%) আল্লাহর নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক। যাকাত কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দরিদ্র ও অসহায়দের অধিকার হিসেবে প্রদান করা হয়।

যাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

সম্পদ পরিশুদ্ধকরণ

যাকাত প্রদানের মাধ্যমে নিজের সম্পদ থেকে অন্যের পাওনা অংশ আলাদা করে সম্পদকে পবিত্র করা হয়।

সামাজিক ভারসাম্য

যাকাতের মাধ্যমে সমাজের ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য দূর হয় এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

দরিদ্রের অধিকার

যাকাত কোনো করুণা নয়, বরং এটি সম্পদশালীর সম্পদে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রাপ্য অধিকার।

বারাকাহ ও বৃদ্ধি

যাকাত দিলে বাহ্যিকভাবে সম্পদ কম মনে হলেও আল্লাহ তাতে বরকত দেন এবং তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।

যাকাত কার ওপর ফরজ?

যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য মৌলিকভাবে ৫টি শর্ত রয়েছে:

  • মুসলিম হওয়া।
  • স্বাধীন হওয়া (দাস নয়)।
  • নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ টাকা/ব্যবসা পণ্য)।
  • সম্পদ পূর্ণ মালিকানায় থাকা।
  • নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর কাল স্থায়ী থাকা।